গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ পারভেজ মাগুরার অভিযোগ পেরিয়ে সংসদ ভবনে
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৫-০৯-২০২৬ ০১:৩৬:২৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৫-০৯-২০২৬ ০১:৩৬:২৩ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজকে ঘিরে পুরোনো অভিযোগের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু প্রশ্ন।
মাগুরায় দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাজ শুরু, ভাউচারনির্ভর ব্যয় এবং নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের পর মাগুরা গণপূর্ত বিভাগে অভিযান চালিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০২৫ সালের ২৪ মার্চ প্রকাশিত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মাগুরা গণপূর্ত বিভাগে দরপত্র আহ্বান না করে অনিয়মের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ নামমাত্র বাস্তবায়ন করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পর দুদকের ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়।
অভিযোগের ওই অধ্যায় শেষ হওয়ার পর নাহিদ পারভেজের পদায়ন হয় ঢাকার শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এ। সরকারি গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তালিকাতেও তাঁকে বর্তমানে ওই বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় ।
এই বিভাগের আওতায় জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনার নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ পরিচালিত হয়। ফলে একজন কর্মকর্তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে কি না এবং নতুন কর্মস্থলে তাঁর অধীনে পরিচালিত সরকারি প্রকল্প ও দরপত্রগুলো যথাযথ বিধি মেনে হচ্ছে কি না—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাগুরা গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন রাজস্ব কাজ নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, কয়েকটি কাজের ক্ষেত্রে দরপত্র আহ্বান, শিডিউল বিক্রি কিংবা আনুষ্ঠানিক টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাজ শুরু করা হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে টেন্ডার আইডি ১০৭২৭১৬, ১০৭২৭১৫, ১০৭২৭১৩ ও ১০৭২৭১১-এর মতো কয়েকটি কাজের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনের রাস্তা ও হাঁটার পথ নির্মাণ বা সংস্কার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মেরামত, সার্কিট হাউস সংস্কার এবং বাসভবনের সীমানাপ্রাচীর-সংক্রান্ত কাজের কথা বলা হয়েছে।
এসব কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় কয়েক লাখ টাকা থেকে প্রায় ১৯ লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বিষয়টি শুধু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসসের প্রতিবেদনে দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি একটি সংস্থা মাঠপর্যায়ে কাজ পরিদর্শন ও নথি সংগ্রহ করেছিল।
মাগুরার অভিযোগ প্রসঙ্গে নাহিদ পারভেজ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। নাগরিকদের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে তিনি টেন্ডার সম্পন্ন হওয়ার আগেই কিছু কাজ শুরু করেছিলেন বলে তাঁর বক্তব্য।
তাঁর এই বক্তব্যই বিষয়টির নথিভিত্তিক অনুসন্ধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। কারণ কোনো কাজ জরুরি হওয়ায় দ্রুত শুরু করার প্রয়োজন থাকলেও সেটি কোন প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদনের ভিত্তিতে করা হয়েছিল—সেটিই মূল
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স